বিজিবি বেসামরিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2021 BGB Job

বিজিবি বেসামরিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2021 BGB Job প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। বিজিবির সকল প্রকার জব আপডেট নিউজ পাবেন এখান থেকে। এখানে সম্প্রতি প্রকাশিত সিভিলিয়ান বিভিন্ন পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে যা আপনার আই পোস্টের নিচে পাবেন।

বিজিবি বেসামরিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2021 BGB Job

বিজিবি জব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই জনপ্রিয় চাকরী। অনেকেই বিজিবিতে জবের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতছেন। এখান থেকে আপনারা বিজিব সকল জবের ফলাফল, জব রিটেন পরীক্ষার কেন্দ্র, আবেদন পদ্ধতি, বেতনসহ অন্যান্য সকল নিঊজ পাবেন।

Degree, Honours. Masters বিগত সালের প্রশ্ন ও সমাধান, সাজেশন, নোটিশ পেতে এখানে ক্লিক করে নিয়মিত চেক করুন

বিজিবি বেসামরিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি 2021 BGB Job

পদের নামঃ নিচের সার্কুলার দেখুন অনুগ্রহ করে।

জবের ধরণঃ সরকারি

পরীক্ষার তারিখঃ SMS এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে সবাইকে

আবেদন করার সময়সীমাঃ ১৩-১৭ মার্চের মধ্যে SMS আবেদন করা যাবে।

পদের সংখ্যাঃ নিচের সার্কুলার দেখুন অনুগ্রহ করে।

আবেদন বা রেজিষ্ট্রেশন করার মাধ্যমঃ শুধুমাত্র টেলিটক সিম দিয়ে আবেদন করা যাবে।

বয়সঃ ১৮-৩০ বছর জেনারেল প্রার্থীদের জন্য এবং ১৮-৩২ বছর মুক্তিযোদ্ধা কোটার প্রার্থীদের জন্য।

বৈবাহিক অবস্থাঃ বিবাহিত/অবিবাহিত সবাইক আবেদন করতে পারবে।

ট্রেড কোড:

 

SSC এবং HSC বোর্ড কোড:

 

আবেদন করার জন্য জেলা কোডঃ

 

বিজিবিতে এসএমএস এ আবেদন করার নিয়মঃ

(১) ভর্তিচ্ছুক প্রার্থীগণ যে কোন টেলিটক প্রিপেইড মােবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি CAPITAL LETTER এ টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস (SMS) প্রেরণ করুনঃ BGB<Space>TRADE CODE<Space>SSC BOARD CODE<Space>SSC ROLL<space>PASSING YEAR<space>HSC BOARD CODE<Space>HSC ROLL<Space>PASSING YEAR<space>HOME DISTRICT CODE<space>UPAZILLA NAME<space> FREEDOM FIGHTER CODE – SEND TO 16222

উদাহরণ: পদের নাম- Office Assistant, এসএসসি বাের্ড- DHAKA, রােল নম্বর- 342014, পাশের বছর-2013, এইচএসসি বাের্ড- DHAKA, রােল নম্বর- 203564, পাশের বছর- 2015, জেলা কোড- 40, উপজেলার নাম- MIRPUR,

মুক্তিযােদ্ধার সন্তান/মুক্তিযােদ্ধার সন্তানের সন্তান না হলে এই প্রার্থীর SMS হবে নিম্নরুপঃ

BGB 66 DHA 342014 2013 DHA 203564 2015 40 MIRPUR N (মুক্তিযােদ্ধার সন্তান/মুক্তিযােদ্ধার সন্তানের সন্তান হলে N এর স্থলে M হবে)।

(২) ভর্তিচ্ছুক প্রার্থীগণ যে কোন টেলিটক প্রিপেইড মােবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি CAPITAL LETTER এ টাইপ করে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস (SMS) প্রেরণ করুন ঃ

BGB <Space>TRADE CODE<Space>SSC BOARD CODE<Space>SSC ROLL<space>PASSING YEAR<space> HOME DISTRICT CODE<space>UPAZILLA NAME<space> FREEDOM FIGHTER CODE SEND TO 16222.

উদাহরণঃ পদের নাম- MIDWIFE, এসএসসি বাের্ড- DHAKA, রােল নম্বর- 236098, পাশের বছর- 2013, জেলা কোড- 40, উপজেলার নাম- MIRPUR,

মুক্তিযােদ্ধার সন্তান/মুক্তিযােদ্ধার সন্তানের সন্তান না হলে, এই প্রার্থীর SMS হবে নিম্নরুপঃ

BGB 68 DHA 23609৪ 2013 40 MIRPUR N (মুক্তিযােদ্ধার সন্তান/মুক্তিযােদ্ধার সন্তানের সন্তান হলে N এর স্থলে M হবে)।

(৩) ভর্তিচ্ছুক প্রার্থীগণ যে কোন টেলিটক প্রিপেইড মােবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি CAPITAL LETTER এ টাইপ করে ১৬২২২ নম্বর SMS প্রেরণ করুন ঃ

BGB<Space>TRADE CODE* CANDIDATES NAME *FATHER’S NAME MOTHER’S NAME*DISTIRICT CODE*UPAZILLA NAME* DATE OF BIRTH*FREEDOM FIGHTER CODE SEND TO 16222.

উদাহরণ: পদের নাম- CARPENTER* নাম- Md Serajul Islam* পিতার নাম- Mizanur Rahman মাতার নাম- Aklima Begum* নিজ জেলা- Jashore*উপজেলার নাম- Bagharpara* জন্ম তারিখঃ-10/04/94*

মুক্তিযােদ্ধার সন্তান/মুক্তিযােদ্ধার সন্তানের সন্তান না হলে এই প্রার্থীর SMS হবে নিম্নরুপঃ

BGB 72*MD SERAJUL ISLAM MIZANUR RAHMAN AAKLIMA BEGUM*23*BAGHARPARA*10/04/94%N (মুক্তিযােদ্ধার সন্তান/মুক্তিযােদ্ধার সন্তানের সন্তান হলে N এর স্থলে M হবে)।

প্রার্থীদের এসএমএস (SMS) প্রাপ্তির পর তাৎক্ষণিক তথ্য যাচাই করে যােগ্য প্রার্থীদেরকে একটি পিন (PIN) নম্বর সম্বলিত এসএমএস (SMS) টেলিটক নম্বরে প্রেরণ করা হবে। অযােগ্য প্রার্থীদের অযােগ্যতার কারণ এসএমএস (SMS) এ উল্লেখ থাকবে।

যােগ্য প্রার্থীদের পিন (PIN) নাম্বার প্রাপ্তির পর ১৫০.০০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা আবেদন ফি প্রদান করতে ইচ্ছুক হলে পুনরায় টেলিটক মােবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নিম্নবর্ণিত তথ্যগুলি টাইপ করে ১৬২২২ নম্বর এসএমএস (SMS) প্রেরণ করতে হবে:

BGB<space>YES<space>PIN NO<space>Personal Contact number (any mobile operator) send to 16222

উদাহরণ: BGB YES 89409812 01XXXXXXXXX

ভর্তি কার্যক্রমের ফি বাবদ ১৫০.০০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা কর্তন করা হবে বিধায় দ্বিতীয়বার মেসেজ প্রেরণের পূর্বে টেলিটকের প্রিপেইড মােবাইলের ব্যালেন্স এসএমএস (SMS) প্রেরণ চার্জসহ ন্যূনতম ১৬০.০০ (একশত ষাট) টাকা হওয়া আবশ্যক।

দ্বিতীয়বার এসএমএস (SMS) প্রাপ্তির পর প্রার্থীকে রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ একটি কনফার্মেশন এসএমএস (SMS) টেলিটক ও প্রার্থীর নিজস্ব মােবাইলে প্রেরণ করা হবে। ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে। একবার চূড়ান্ত আবেদনের পর তা আর সংশােধন বা পরিবর্তন করা যাবে না।

প্রার্থীদের মেডিক্যাল ও লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ: নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক মেডিক্যাল, লিখিত, ব্যবহারিক, মৌখিক এবং চূড়ান্ত ডাক্তারী পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

অতঃপর যােগ্য প্রার্থীদের মধ্য হতে মেধা তালিকা মােতাবেক বরাদ্দকৃত কোটা অনুযায়ী শুধুমাত্র নির্বাচিত প্রার্থীদেরকেই এইচবিএস এজি (HBs Ag), Dope Test, Fasting Sugar, HbA1C, Anti HCV এবং Serum Creatinine রক্ত পরীক্ষার জন্য বর্ডার গার্ড হাসপাতাল, ঢাকা প্রেরণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এইচবিএস এজি (HBs Ag) ও Anti HCy রক্ত পরীক্ষায় Negative, Dope পরীক্ষায় Not Detected এবং Fasting Sugar, HbA1C ও Serum Creatinine রক্ত পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফলাফল প্রাপ্ত প্রার্থীগণই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বলে গণ্য হবে।

ভর্তির সময় বিজিবিতে কি কি কাগজপত্র লাগবেঃ

ক। শিক্ষাগত যােগ্যতা সনদপত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি।

খ। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষ কর্তৃক অষ্টম শ্রেণী/এসএসসি/দাখিল/এইচএসসি/ফাজিল/সমমান পাশের মূল প্রশংসা পত্রসহ সত্যায়িত ছায়াকপি যাতে প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা ও জন্ম তারিখ উল্লেখ থাকবে।

গ। অভিভাবক কর্তৃক প্রার্থীর চাকুরীতে যােগদানের সম্মতি সনদপত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি (চেয়ারম্যান/পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত)।

ঘ। সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা সনদপত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি।

ঙ। ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার এর নিকট হতে বাংলাদেশী স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি।

চ। ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি।

ছ। সদ্য তােলা নীল ব্যাকগ্রাউন্ড সম্বলিত ল্যাবে প্রিন্টকৃত ১১ (এগার) কপি পাসপাের্ট সাইজের রংগীন ছবি (০১ কপি ছবি ইউপি চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার দ্বারা সত্যায়িত এবং ১০ কপি সত্যায়িত ব্যতীত)।

জ। বিবাহিত/অবিবাহিত সম্পর্কিত স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সনদপত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি।

ঝ। বিবাহিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে কাবিননামার মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি ও স্বামী-স্ত্রীর রংগীন পােষ্ট কার্ড সাইজের ০২ (দুই) কপি যুগল ছবি যা চেয়ারম্যান/ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।

ঞ। জাতীয় পরিচয়পত্রের মূলকপিসহ সত্যায়িত ছায়াকপি।

ট। http://www.bgb.gov.bd লিংকে প্রবেশ করে ডাউনলােড অপশনে গিয়ে বিজিবিতে ভর্তিচ্ছুক প্রার্থীদের তথ্যাদির ফরমে ক্লিক করতে হবে এবং ফরমটি ডাউনলােড পূর্বক উক্ত ফরমে উল্লিখিত তথ্যাদি যথাযথভাবে পূরণ করতঃ ভর্তির সময় অবশ্যই সংগে আনতে হবে। |

BGB Civilian Job Circular 2021

 

বিজিবি নিয়োগ আবেদন ফরম ডাউনলোড

 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সম্পর্কে

ভুমিকা : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বীরত্ব ও ঐতিহ্যের গৌরবমন্ডিত এক সুশৃঙ্খল আধা-সামরিক বাহিনী। বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু এবং মাদক পাচার প্রতিরোধসহ অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বিজিবি ‘অতন্দ্র প্রহরী’র দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর ২২৩ বছরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বর্তমানে এবাহিনীর দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপকতা বৃদ্ধি এবং কর্মকুশলতা বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। ইতিহাসের ক্রমধারায় বিজিবি এর বিবর্তন নিম্নরূপ:

ক. রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক ১৭৯৪ সালে গঠিত ‘ফ্রন্টিয়ার প্রটেকশন ফোর্স’ এর নাম পরিবর্তন করে ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন ‘রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে এবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ৪৪৮ জন সদস্যের দু’টি অনিয়মিত অশ্বারোহী দল ও চারটি কামান নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

খ. ফ্রন্টিয়ার গার্ডস : ১৮৬১ সালে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত ও অনিয়মিত ১৪৫৪ সদস্য সমন্বয়ে ‘ফ্রন্টিয়ার গার্ডস’ নামে এ বাহিনী পুনর্গঠিত হয়। তখন এর সদর দপ্তর ছিল চট্টগ্রামের এবং অধীনস্থ সীমান্ত ফাঁড়িগুলো কামরূপ, গোয়ালপাড়া, লক্ষীপুর, সিলেট ও ত্রিপুরায় অবস্থিত ছিল। ১৮৭৯ সালে ‘স্পেশাল রিজার্ভ কোম্পানী’ নামে এবাহিনী পিলখানায় প্রথম ঘাঁটি স্থাপন করে।

গ. বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ: ১৮৯১ সালে এবাহিনীর নতুন নামকরণ করা হয় ‘বেঙ্গল মিলিটারি পুলিশ’। তখন একজন ইউরোপীয় সুবেদারের নেতৃত্বে এ ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানী ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশ ঢাকা, ধুমকা, ভাগলপুর ও গ্যাংটকে স্থাপন করা হয়।

ঘ. ইস্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস: ১৯২০ সালে এর জনবল ও শক্তি বৃদ্ধি করে ১৬ টি প্লাটুন সমন্বয়ে ‘ইস্টার্ণ ফ্রন্টিয়ার্স রাইফেলস’ নামকরণ করা হয় । তখন এর প্রাথমিক কাজ ছিল সীমান্ত রক্ষা এবং অভন্তরীণ নিরাপত্তায় সহায়তা করা।

ঙ. ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস : ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর পুনর্গঠিত এবাহিনীর নামকরণ করা হয় ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস)। কলকাতা মেট্রোপলিটন আর্মড পুলিশের একটি দল, কিছু সংখ্যক বাঙালি এবং সে সময়ের পশ্চিম পাকিস্তানের এক হাজার প্রাক্তন সৈনিক এবাহিনীতে যোগ দেয়। পরে আরো তিন হাজার বাঙালি নিয়োগ করে এবাহিনীকে সুসংগঠিত করা হয়। দক্ষ নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে অফিসার নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৮ সালে এবাহিনীকে চোরচালান দমনের দায়িত্ব দেয়া হয় । ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এ বাহিনীর জনবল ১৩,৪৫৪ জনে উন্নীত হয়।

চ. মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ : বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এবাহিনী অবিস্মরণীয় বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাক-হানাদার বাহিনী ঢাকার পিলখানাস্থ তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তর আক্রমণ করে । এবাহিনী সদর দপ্তর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তা ওয়ারলেস যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়। ফলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সৈনিক-জনতা।

প্রথম দিকে ইপিআরের বাঙালি সদস্যগণ রণকৌশলগত কারণে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে জিঞ্জিরায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে এবাহিনীর ১২ হাজার বাঙালি সৈনিক অন্যান্য বাহিনী ও মুক্তিকামী মানুষের সাথে সংগঠিত হয়ে বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরে ৯ মাস ব্যাপী সশস্ত্র যুদ্ধে নিয়োজিত থাকে। এবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাগণ পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ, গেরিলা যুদ্ধ ও শত্রুঘাঁটি নিশ্চিহ্ন করতে আত্নঘাতি আক্রমণসহ অসংখ্য দুর্ধর্ষ অপারেশন পরিচালনা করে। মুক্তিযুদ্ধে এবাহিনীর সর্বমোট ৮১৭ জন সৈনিক শহীদ হন।

এঁদের মধ্যে অপরিসীম বীরত্বের জন্য শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এবং শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ কে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর শ্রেষ্ঠ’ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ৮ জন ‘বীর উত্তম’, ৩২ জন ‘বীর বিক্রম’ ও ৭৮ জন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

ছ. বাংলাদেশ রাইফেলস : দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ০৩ মার্চ এবাহিনীর নামকরণ করা হয় বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস)। ১৯৮০ সালের ০৩ মার্চ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বাহিনীর কর্মকান্ডের বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ রাইফেল্‌সকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০০৮ প্রদান করা হয় ৷

জ. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ : ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর সদর দপ্তর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ডে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হয়। মর্মান্তিক ঐ ঘটনার পর বাহিনী পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। মহান জাতীয় সংসদে ২০১০ সালের ০৮ ডিসেম্বর ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন, ২০১০’ পাশ হয়ে ২০ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২৩ জানুয়ারী, ২০১১ তারিখে বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি) এর নতুন পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলন এবং মনোগ্রাম উন্মোচনের মধ্যদিয়ে শুরু হয় এবাহিনীর নতুন পথচলা।

উপসংহার: নতুন আইনের আওতায় বাহিনীর সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এ বাহিনী বর্তমানে ১৬টি সেক্টর, ৬১ টি ব্যাটালিয়ন ও বহু সংখ্যক বিওপি এর মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করে যাচ্ছে। বিজিবি ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী ও শিশু এবং মাদক পাচারসহ যে কোনও ধরণের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

More Jobs:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *